মোবাইল টিপস

রিফারবিশড ফোন কী? রিফারবিশড ফোন কেনার আগে যা জানা জরুরি।

প্রিয় পাঠক, আমরা আজকে জানবো রিফারবিশড ফোন (Refurbished Phone) সম্পর্কে। যদিও বেশিরভাগ স্মার্টফোন ব্যবহারকারীই রিফারবিশড ফোন সম্পর্কে অবগত নয়।

কেউ কেউ আবার মনে করতে পারে রিফার্বিশড হয়তো কোনো কোম্পানির নাম। যদিও রিফারবিশড কোনো কোম্পানির নাম নয়।

আপনি যদি রিফারবিশড ফোনের নাম শুনে থাকেন বা দেখে থাকেন তাহলে অবশ্যই লক্ষ্য করেছেন যে, অনলাইন বাজারে রিফারবিশড ফোনের দাম তুলনামূলক ভাবে অনেক কম।

স্বাভাবিক ফোন থেকে রিফারবিশড ফোনগুলোর দাম প্রায় 50% কম হয়ে থাকে। রিফারবিশড ফোনগুলো নিয়ে নিশ্চয়ই ভেবেছেন যে, রিফারবিশড ফোন কেন এত কম দামে পাওয়া যায়?

হয়তো মনে আরো প্রশ্ন জাগ্রত হচ্ছে যে, রিফারবিশড ফোন কী? রিফারবিশড ফোন কি কেনা উচিত? ইত্যাদি।

তাই চিন্তা করবেন না, যদি আপনি রিফার্বিশড ফোন সম্পর্কে জানতে চান তাহলে আপনি সঠিক জায়গায় এসেছেন।

প্রযুক্তি প্রিয় ডট কম এর আজকের এই আর্টিকেল থেকে আমরা জানবো Refurbished ফোন অর্থ কী, রিফারবিশড ফোন কেনার সময় কী কী বিষয় মাথায় রাখতে হবে, কেন রিফারবিশড করা ফোনের দাম এত কম ইত্যাদি ইত্যাদি।

আজকের এই আর্টিকেলে আপনি রিফারবিশড ফোন নিয়ে আপনার মনে জাগ্রত হওয়া সকল প্রশ্নের উত্তর পাবেন।

তাই পুরো আর্টিকেলটি মনোযোগ দিয়ে পড়ুন যাতে আপনি আপনার সমস্ত প্রশ্নের উত্তর পেতে পারেন। তো চলুন প্রথমে জেনে নিই Refurbished Phone এর অর্থ কী?

রিফারবিশড ফোন কী? (What Is Refurbished Phone?)

রিফার্বিশড ফোন হচ্ছে এমন ফোন যা ইতিমধ্যেই অন্য কেউ কিনেছে কিন্তু কোনো সমস্যার কারণে কোম্পানিকে ফেরত দেওয়া হয়েছে।

অনেক সময় কেউ কোনো নতুন ফোন কিনলে তাতে কিছু সমস্যা দেখা যায় যেমন ব্যাটারি ফেইলিউর, ক্যামেরা বা স্পিকার ফেইলিউর ইত্যাদি ইত্যাদি।

কোম্পানির কাছে এই ধরনের সমস্যার অভিযোগ করলে, সেই ফোন প্রতিস্থাপন (Replacement) করে।

☞ আরো পড়ুন:  মোবাইল ফোন নিরাপদ রাখতে কার্যকর কিছু টিপস।

আর কোম্পানি ফোনের সেই সমস্যা ঠিক করে আবার বাজারে বিক্রি করে দেয় এবং যা পরবর্তীতে রিফারবিশড ফোন হিসেবে পরিচিতি পায়।

উল্লেখ্য, রিফারবিশড বা সংস্কার করা ডিভাইসগুলো পুনঃবিক্রয় করার আগে তা ব্যবহারের জন্য উপযুক্ত কিনা তা নিয়ে বেশ কিছু পরীক্ষা করে এবং তারপর ডিভাইসটি আবার বাজারে ছাড়া হয়।

রিফারবিশড ফোন কী
রিফারবিশড ফোন কী

রিফারবিশড ডিভাইস যেহেতু নতুন কোনো ডিভাইস নয় তাই সেগুলো নতুন ডিভাইসের তুলনায় অনেক কম দামে বিক্রি করা হয় এবং এর ওয়ারেন্টি সময়ও কম করা হয়।

এখন আপনি নিশ্চয়ই বুঝতে পেরেছেন যে, Refurbished Phone বলতে কী বোঝায়। না বুঝলে উদাহরণ দিয়ে বুঝিয়ে দিই।

ধরা যাক আপনি কয়েক মাস আগে একটি আইফোন কিনেছেন। সাধারণত আপনি উক্ত স্মার্টফোনের সাথে ১ বছরের পরিষেবা এবং প্রতিস্থাপন ওয়ারেন্টি (Replacement Warranty) পান।

৪/৫ মাস ধরে স্মার্টফোন ব্যবহার করার পর আপনার ফোনে একটি সমস্যা দেখা দিয়েছে।

হতে পারে আপনার ব্যাটারি ব্যাকআপ খুব কম বা আপনার ফোনের স্পিকার বা মাইক্রোফোন কাজ করা বন্ধ করে দিয়েছে বা অন্য কোনো সমস্যা।

এবং আপনি আপনার স্মার্ট ফোনটি একটি আইফোন মেরামত কেন্দ্রে নিয়ে গেলেন এবং স্মার্ট ফোনটি ঠিক করা হয়নি, তারপরে আপনি স্মার্ট ফোনটি রিপ্লেসমেন্টের দাবি করেলেন।

এখন যদিও আইফোন কোম্পানি আপনার স্মার্টফোনটি ঠিক করতে পারে, কিন্তু তারা আপনার স্মার্টফোনটি রিপ্লেসমেন্ট করতে বাধ্য।

কারণ তারা আপনাকে ১ বছরের রিপ্লেসমেন্ট ওয়ারেন্টি দিয়েছে। তাই তারা আপনার ফোন রিপ্লেসমেন্ট করবে।

অর্থাৎ আপনার পুরনো স্মার্টফোনটি রেখে নতুন আরেকটি স্মার্টফোন আপনাকে দিয়ে দিবে। কিন্তু আপনার দেওয়া নষ্ট স্মার্টফোন দিয়ে তারা কী করবে?

তারা যা করতে পারে তা হল, আপনার স্মার্টফোনের সাথে আপনার যে সমস্যাগুলো ছিল তা ঠিক করে এটি পুনরায় বিক্রি করে দেওয়া৷

তখন আপনার সেই পুরনো স্মার্টফোনটিই হবে সংস্কার করা ফোন বা রিফারবিশড ফোন।

অথবা, প্রস্তুতকারক কোম্পানি চাইলে আপনার পুরনো স্মার্টফোনটি থার্ড পার্টি কোনো কোম্পানির কাছেও বিক্রি করে দিতে পারে।

☞ আরো পড়ুন:  মোবাইলের চার্জ দীর্ঘসময় পর্যন্ত ধরে রাখার কার্যকরী কিছু উপায়

থার্ড পার্টি সেই কোম্পানি আপনার ফেরত দেওয়া স্মার্টফোনটি মেরামত করে রিফারবিশড ফোন হিসেবে বিক্রি করে দিবে।

রিফারবিশড স্মার্টফোন কেনার আগে যে বিষয়গুলো জানা জরুরি।

উপরে রিফারবিশড স্মার্টফোন সম্পর্কে আমি যা বলেছি তার সমস্ত কিছু জানার পরেও, আপনি যদি রিফারবিশড স্মার্টফোনটি কিনতে আগ্রহী হোন তবে কেনার আগে আপনাকে কিছু জিনিস মাথায় রাখতে হবে। যেগুলো নিচে বিস্তারিত ভাবে তুলে ধরলাম।

০১. যেকোনো স্বনামধন্য অনলাইন/অফলাইন স্টোর থেকে স্মার্টফোন কেনার বিষয়টি নিশ্চিত করুন।

আপনি যদি অনলাইন থেকে স্মার্টফোন কেনার পরিকল্পনা করেন তাহলে কোনো বিশ্বস্ত অনলাইন স্টোর থেকে কিনুন।

আর স্মার্টফোন কেনার আগে স্মার্টফোনের ইউজার রিভিউ এবং সেলার রিভিউ দেখে নেওয়া উচিত।

এছাড়াও যদি সম্ভব হয়, এই স্মার্টফোনটি সম্পর্কে সরাসরি সেই বিক্রেতার সাথে যোগাযোগ করুন এবং যেসব স্মার্টফোন ব্যবহারকারীরা ইতিমধ্যে তাদের কাছ থেকে কিনেছে তাদের মতামত নিন।

যদি এটি সম্ভব না হয় তবে যারা স্মার্টফোনটি কিনেছেন তারা পণ্য সম্পর্কে সাইটে কী মন্তব্য করেছেন তা দেখে নিন।

০২. নিশ্চিত করুন যে, রিফারবিশড স্মার্টফোনটি সরাসরি অফিসিয়াল প্রস্তুতকারকের দ্বারা পুনর্নবীকরণ বা রিনিউ করা হয়েছে৷

যদি আপনার কিনতে চাওয়া রিফারবিশড ফোনটি কোনো অফিসিয়াল প্রস্তুতকারকের দ্বারা মেরামত করা হয়ে থাকে, সেক্ষেত্রে আপনাকে ঐ ফোনকে বেশি অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত বলে মনে করি।

তবে যদি কোনো থার্ড পার্টি কোম্পানির মেরামত করা স্মার্টফোন কেনেন, তাহলে পরবর্তীতে সেটি নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে।

০৩. আপনার কিনতে চাওয়া রিফারবিশড স্মার্টফোনটি আসল কিনা তা নিশ্চিত হয়ে নিন।

বিভিন্ন অনলাইন স্টোরে কিছু বিক্রেতা রয়েছে যারা নকল ফোন বা ক্লোন ফোনগুলোকে রিফারবিশড স্মার্টফোন হিসাবে বিক্রি করার চেষ্টা করে।

তাদের ফাঁদে পা দেবেন না। এটি এড়ানোর উপায় হল স্মার্টফোন কেনার আগে বিক্রেতার রেটিং দেখে নেওয়া এবং প্রতিটি পণ্য পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা করা।

কারণ, এমন কোনো সমস্যা থাকলে, আপনি পণ্যের রিভিউ থেকে সহজেই জানতে পারবেন।

☞ আরো পড়ুন:  মোবাইল গরম হওয়ার কারণ। মোবাইল গরম হলে করণীয় কী?

০৪. সম্ভব হলে হার্ডওয়্যার পরীক্ষা করুন।

রিফারবিশড বা সংস্কার করা মোবাইল ফোন কেনার আগে, ফোনটির গঠন ঠিক আছে কিনা তা নিশ্চিত করুন।

ফোনটিতে কোনো স্ক্র্যাচ বা অন্য কোনো সমস্যা আছে কিনা তা পরীক্ষা করুন। আপনি যদি কোনো ত্রুটি অনুভব করেন তবে আপনি ফোনটি খুলতে পারেন এবং এটি পরীক্ষা করতে পারেন।

আপনার যদি ফোনটি হাতে নেওয়ার সুযোগ থাকে তবে USB কেবলটি ল্যাপটপের সাথে সংযুক্ত করার চেষ্টা করুন।

ডেটা স্থানান্তর এবং চার্জিং নিয়ে কোনো সমস্যা আছে কিনা তা পরীক্ষা করুন। সিম কার্ড ঢোকান এবং নেটওয়ার্ক সঠিকভাবে কাজ করছে কিনা তা পরীক্ষা করুন।

ওয়েব ব্রাউজ করুন, কিছু অ্যাপ্লিকেশন ডাউনলোড করুন এবং ফটো ও ভিডিওগুলো সঠিকভাবে কাজ করছে কিনা তা পরীক্ষা করুন৷

০৫. কেনার সময় অবশ্যই রসিদ (Receipt) নিয়ে নিবেন।

কোনো রিফারবিশড ফোন কেনার সময়, আপনার ফোনের জন্য অবশ্যই রসিদ চাইতে হবে। এটি নিশ্চিত করবে যে ফোনটি কোনো চুরি করা ফোন নয়।

ফোনের বক্স থেকে ফোনের IMEI (International Mobile Equipment Identity) নাম্বারও জানতে পারবেন। নিশ্চিত করুন ফোনে থাকা ব্যাটারি আসল কিনা।

এর কারণ যদি ফোনের ব্যাটারি আসল না হয়, তাহলে পরবর্তীতে ফোন চার্জিংয়েও সমস্যা হতে পারে। প্রথমে ফোনের IMEI নম্বর চেক করুন।

ফোনের IMEI নাম্বার জানতে *#06# টাইপ করুন। আপনি যদি ফোনের কীপ্যাডে এই নম্বরটি লিখে টাইপ করেন, তাহলে স্ক্রিনে ১৫ সংখ্যার IMEI নাম্বার দেখাবে।

আপনি যদি কোনো রিফারবিশড আইফোন কিনতে চান তাহলে আপনাকে একটু বেশিই সতর্ক হতে হবে। কারণ বাজারে নকল আইফোনও বিক্রি হয়।

ক্লোন আইফোনগুলোও অ্যাপলের তৈরি আসল আইফোনের মতো দেখতে। আপনি এত বেশি টাকা দিয়ে তো আর ক্লোন স্মার্টফোন কিনতে চাবেন না।

তাই যেকোনো রিফারবিশড স্মার্টফোন কেনার আগে এসব বিষয় অবশ্যই লক্ষ্য রাখবেন।

100% LikesVS
0% Dislikes

Robin Miah

আমি রবিন মিয়া, একজন সৌদি আরব প্রবাসী। আমার বাসা টাংগাইলের কালিহাতীতে। প্রযুক্তি বিষয়ক বিভিন্ন তথ্য নিজে জানার জন্য এবং আপনাদের জানানোর উদ্দেশ্যে এই ওয়েবসাইটটি তৈরি করেছি।

Related Articles

Back to top button

Discover more from প্রযুক্তি প্রিয়

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading