মোবাইল অ্যাপস

টিকটক ভিডিও এডিটিং অ্যাপস। | মোবাইলে ভিডিও এডিটিং সফটওয়্যার।

বর্তমান সময়ে ভিডিওর জনপ্রিয়তা কতটা রয়েছে সেটা হয়তো বলে বুঝানোর দরকার নেই। আমরা সবাই কম-বেশি কোনো না কোনো প্লাটফর্মের জন্য ভিডিও তৈরি করে থাকি।

সেটা হোক ইউটিউব, ফেসবুক, টিকটক, ইনস্টাগ্রাম, লাইকি কিংবা অন্য কোনো প্ল্যাটফর্ম। তাছাড়া বাড়িতে কোনো বিয়ে, জন্মদিন, বিশেষ কোনো অনুষ্ঠান কিংবা কোথাও ঘুরতে গেলেই আমরা তা ভিডিও ধারণ করে রাখি।

আমরা চাইলে সেসব ভিডিও আমাদের হাতে থাকা স্মার্টফোন দিয়ে এডিট করে আরো সুন্দর করে তুলতে পারি। তবে এর জন্য দরকার পরবে ভালো একটি ভিডিও এডিট করার সফটওয়্যার।

আজকের এই আর্টিকেলে সেরা ৫ টি মোবাইলে ভিডিও এডিটিং সফটওয়্যার এর সাথে আপনাদের পরিচয় করিয়ে দিব।

আপনারা যারা জিজ্ঞেস করেন, “মোবাইল দিয়ে ভিডিও এডিটিং এর জন্য সবচেয়ে ভাল সফটওয়্যার কোনটি?” তারা এই আর্টিকেলটি মনোযোগ দিয়ে পড়ুন।

কারণ, এখানে সেরা ৫ টি মোবাইল দিয়ে ভিডিও এডিট করার সফটওয়্যার নিয়ে বিস্তারিত ভাবে আলোচনা করবো।

যার মধ্যে ব্যাসিক এবং প্রফেশনাল মানের ভিডিও এডিট করার সফটওয়্যারও রয়েছে। আপনি আপনার প্রয়োজন অনুযায়ী পছন্দের সফটওয়্যারটি ডাউনলোড করে ব্যবহার করবেন।

টিকটক ভিডিও এডিটিং অ্যাপস ডাউনলোড

সেরা ৫ টি মোবাইলে ভিডিও এডিটিং সফটওয়্যার।

ফেসবুক, লাইকি, ইউটিউব ও টিকটক ভিডিও এডিট করার সফটওয়্যারগুলো নিচে বিস্তারিত ভাবে দেওয়া হলো-

০১. InShot (ফেসবুক, ইউটিউব ও টিকটক ভিডিও এডিট করার সফটওয়্যার ডাউনলোড)

আমাদের তালিকায় সবার প্রথমে যে অ্যাপটি রয়েছে তার নাম হচ্ছে ইনশট। যারা কিনা ফেসবুক এবং ইনস্টাগ্রামের জন্য ভিডিও তৈরি করতে চান তাদের লক্ষ্য করে এই অ্যাপটি তৈরি করা হয়েছে।

তবে আপনি চাইলে এই অ্যাপটি দিয়ে টিকটক, লাইকি এবং ইউটিউবের জন্যও ভিডিও এডিট করতে পারবেন। ইনশট অ্যাপটি ব্যবহার করা খুবই সহজ এবং যেকোনো স্মার্টফোনের সাথে বেশ ভালো কাজ করে থাকে।

অর্থাৎ আপনার স্মার্টফোনটি যদি তেমন দামি নাও হয়ে থাকে তাহলেও এই অ্যাপটি বেশ ভালোই চলবে। এখানে আপনি মালটি লেয়ার ব্যবহার করতে পারবেন।অর্থাৎ একটি ভিডিওর উপর একটি ছবি, তার উপর আরেকটি ছবি এভাবে করে লেয়ার সেট করে এডিট করতে পারবেন।

এ ছাড়াও কালার কারেকশন, বিভিন্ন রকমের ফিলটার, লেখা যুক্ত করা, মিউজিক যুক্ত করা, রিভার্স করা সহ একটি ভিডিও সাধারণ ভাবে এডিট করতে যেসকল অপশনের প্রয়োজন হয় তার প্রায় সবই আপনি এই অ্যাপে পেয়ে যাবেন।

তবে রেন্ডার দেওয়ার সময় হয়তো লক্ষ করবেন যে, ভিডিওতে ওয়াটারমার্ক রয়েছে। তবে আপনি চাইলে ওয়াটারমার্ক ছাড়াও ভিডিও সেভ করতে পারবেন। আর এর জন্য আপনাকে তাদের দেওয়া বিজ্ঞাপন দেখতে হবে।

InShot অ্যাপটি শুধুমাত্র প্লেটোর থেকেই এপর্যন্ত ১০০ মিলিয়নেরও অধিক সংখ্যকবার ডাউনলোড করা হয়েছে। এবং যার রেটিং পয়েন্ট হচ্ছে ৪.৮।

Video Editing & Maker – InShot অ্যাপটির প্লেস্টরের ডাউনলোড লিংক নিচে দিয়ে দিলাম আপনি চাইলে এখান থেকে ডাউনলোড করে নিতে পারেন।

০২. VN (ফেসবুক, ইউটিউব ও টিকটক ভিডিও এডিটিং অ্যাপস ডাউনলোড)

VN অ্যাপও জনপ্রিয় একটি ভিডিও এডিটিং অ্যাপ। এটি একটি লাইট অ্যাপ। কম দামি স্মার্টফোনের সাথেও এটি বেশ ভালো ভাবেই কাজ করে।

আগের অ্যাপটির মতোই এটাতেও মালটি লেয়ার, ফিলটার ব্যবহার করতে পারবেন। আর তার সাথে FX ব্যবহার করতে পারবেন। অর্থাৎ এনিমেশন, বিভিন্ন রকমের ইফেক্ট মোড রয়েছে।

সেগুলো দিয়ে এডিট করে আপনার ভিডিওতে আরো নতুনত্ব নিয়ে আসতে পারবেন এবং করতে পারবেন আরো আকর্ষণীয়।

ভিডিও ধারণ করার সময় হয়তো সঠিক কালারটা আমরা পাই না তবে আপনি VN অ্যাপ দিয়ে ভিডিওর কালার কারেকশন করে নিতে পারবেন খুব সহজেই আপনার পছন্দ অনুযায়ী।

এছাড়াও মিউজিক যুক্ত করা, সাউন্ড পরিবর্তন করা, সাউন্ড রেকর্ড করা ইত্যাদি অপশন তো থাকছেই। VN অ্যাপ দিয়ে ভিডিও এডিট করা শেষ হয়ে গেলে তা সেভ করলেও ভিডিওর গুনগত মান বেশ ভালো থাকে।

VN অ্যাপটি শুধুমাত্র প্লেটোর থেকেই এপর্যন্ত ৫০০ মিলিয়নেরও অধিক সংখ্যকবার ডাউনলোড করা হয়েছে। এবং যার রেটিং পয়েন্ট হচ্ছে ৪.৭।

VN Video Editor Maker VlogNow অ্যাপটির ডাউনলোড লিংক নিচে দিয়ে দিলাম আপনি চাইলে এখান থেকে ডাউনলোড করে নিতে পারেন।

০৩. Vllo (টিকটক, ফেসবুক ও ইউটিউব ভিডিও বানানোর সফটওয়্যার ডাউনলোড)

এবার আমরা কথা বলবো একটি কোরিয়ান অ্যাপ নিয়ে। অ্যাপটির নাম Vllo। অ্যাপটি ব্যবহারে একটি বিশেষ সুবিধা হচ্ছে আপনি 4K-তে ভিডিও রেন্ডার দিতে পারবেন।

তবে সেক্ষেত্রে কোনো ধরনের ওয়াটারমার্ক আসবে না এবং এটাও কিন্তু খুব ভারি অ্যাপ না। তবে অ্যাপটি দিয়ে প্রফেশনাল মানের ভিডিও এডিট করার প্রায় সব অপশনই রয়েছে।

উপরের দুটি অ্যাপের মতো এই অ্যাপটিও ব্যবহার করা অনেক সহজ। এখানে বিভিন্ন রকমের ফিল্টার ও স্টিকার রয়েছে। এবং টেক্সটের মাঝেও আপনি এনিমেশন পাবেন।

বিভিন্ন ধরনের স্টিকার টেক্স রয়েছে। যেগুলো দিয়ে আপনার ভিডিও আরো আকর্ষণীয় করে তুলতে পারবেন খুব সহজেই। তাছাড়াও কালার কারেকশন, মালটি লেয়ার ইত্যাদি সুবিধা পাবেন।

যারা ছবি দিয়ে ভিডিও বানানোর সফটওয়্যার খুজছেন তারা এটি ডাউনলোড করে ব্যবহার করতে পারেন।

VN অ্যাপটি শুধুমাত্র প্লেটোর থেকেই এপর্যন্ত ১০ মিলিয়নেরও অধিক সংখ্যকবার ডাউনলোড করা হয়েছে। এবং যার রেটিং পয়েন্ট হচ্ছে ৪.৩।

VLLO – Intuitive Video Editor অ্যাপটির ডাউনলোড লিংক নিচে দিয়ে দিলাম। আপনি চাইলে এখান থেকে খুব সহজেই ডাউনলোড করে নিতে পারেন।

০৪. Capcut (ফেসবুক, ইউটিউব ও টিকটক ভিডিও এডিট করার সফটওয়্যার ফ্রি ডাউনলোড)

এখন যে অ্যাপটি নিয়ে কথা বলবো তার নাম হচ্ছে Capcut। Cupcut বর্তমান সময়ের বেশ জনপ্রিয় একটি ভিডিও এডিটিং অ্যাপ।

আমার মনে হয় যারা মোবাইল ফোন দিয়ে এডিট করেন Capcut এর নাম শুনেননি এমন কেউ নেই। এই অ্যাপটি দিয়ে প্রায় প্রফেশনাল মানের ভিডিও এডিট করা সম্ভব।

বিশেষ করে যারা টিকটক, লাইকি’র জন্য ভিডিও তৈরি করে থাকেন তাদের অবশ্যই অ্যাপটি পছন্দ হবে। এখানে আপনি দুটি উপায়ে স্পিড কনট্রোল করতে পারবেন।

আপনি চাইলে স্লো-মোশনের ভিডিও এডিট করে ফেলতে পারবেন খুব সহজেই। যেমন ধরুন, ভিডিও স্পিড হঠাৎ বেড়ে গেল আবার হঠাৎ কমে গেল।

যেমনটি আমরা টিকটক, লাইকি ভিডিওতে দেখে থাকি। তাছাড়াও কালার কারেকশন, ফিলটার, এনিমেশন, ভিডিও’র ব্যাকগ্রাউন্ড পরিবর্তন, ভয়েস ইফেক্ট, মিউজিক যুক্ত করা সহ আরো বিভিন্ন অপশন তো থাকছেই।

এসব অপশন ব্যবহার করে আপনি আপনার ভিডিও খুব সহজেই এডিট করে ফেলতে পারেন আপনার ইচ্ছে অনুযায়ী।

CapCut অ্যাপটি শুধুমাত্র প্লেটোর থেকেই এপর্যন্ত ১০০ মিলিয়নেরও অধিক সংখ্যকবার ডাউনলোড করা হয়েছে। এবং যার রেটিং পয়েন্ট হচ্ছে ৪.৫।

CapCut – Video Editor অ্যাপটির ডাউনলোড লিংক নিচে দিয়ে দিলাম। আপনি চাইলে এখান থেকে খুব সহজেই ডাউনলোড করে নিতে পারেন।

০৫. KineMaster (কাইনমাস্টার ভিডিও এডিটিং সফটওয়্যার ফ্রি ডাউনলোড)

এখন যে অ্যাপটির সাথে আপনাদের পরিচয় করিয়ে দিব সেটির নাম হচ্ছে KineMaster। কাইনমাস্টার খুবই জনপ্রিয় একটি অ্যাপ।

আপনি হয়তো ইতিমধ্যে এই অ্যাপটি কখনো না কখনো ব্যবহার করেছেন আশা করি। আর ব্যবহার না করে থাকলেও নাম হয়তো অবশ্যই শুনেছেন।

মোবাইল দিয়ে ভিডিও এডিট করার জন্য যেসব অ্যাপ রয়েছে তার মধ্যে সবার প্রথম সারির অ্যাপটিই হচ্ছে কাইনমাস্টার ভিডিও এডিটিং সফটওয়্যার।

অ্যাপটি দিয়ে প্রায় প্রফেশনাল মানের ভিডিও এডিট করা সম্ভব। আমার পরিচিত অনেক ইউটিউবারও এই অ্যাপটি ব্যবহার করে তাদের ইউটিউব চ্যানেলের জন্য ভিডিও তৈরি করে থাকে।

আপনিও যদি চান একটি ইউটিউব চ্যানেল তৈরি করতে কিন্তু আপনার কাছে যদি ভিডিও এডিট করার জন্য কোনো কম্পিউটার না থাকে তাহলে আপনি এই অ্যাপটি দিয়েও আপনার চ্যানেলের জন্য ভিডিও এডিট করতে পারেন।

কারণ, ইউটিউব ভিডিও বানানোর সফটওয়্যারগুলোর মধ্যে KineMaster-ই সেরা। উপরে যে চারটি অ্যাপের কথা বললাম ঐ চারটি অ্যাপ দিয়ে যা যা করা যায় KineMaster দিয়েও তার সবই করা যায়।

তবে সাধারণ KineMaster অ্যাপ দিয়ে ভিডিও এডিট করলে ভিডিওতে ওয়াটারমার্ক থেকে যায়। তবে আপনি যদি প্রিমিয়াম ভার্শনটা ব্যবহার করেন তাহলে কোনো ওয়াটারমার্ক আসবে না।

যারা মোবাইল দিয়ে প্রফেশনাল মানের ভিডিও এডিট করতে চান তাহলে তাদেরকে পরামর্শ দিব KineMaster অ্যাপটিই ব্যবহার করার জন্য।

অ্যাপটি দিয়ে কালার কারেকশন, মালটি লেয়ার, টেক্সট, ভয়েস এড সহ প্রায় সব ধরনের এডিট করা সম্ভব। আর ভিডিও কোয়ালিটি ঠিক রেখে যেকোনো পিক্সেলে রেন্ডার করতে পারবেন।

KineMaster মোবাইল ভিডিও এডিটিং অ্যাপটি শুধুমাত্র প্লেটোর থেকেই এপর্যন্ত ১০০ মিলিয়নেরও অধিক সংখ্যকবার ডাউনলোড করা হয়েছে। এবং যার রেটিং পয়েন্ট হচ্ছে ৪.৫।

KineMaster – Video Editor অ্যাপটির ডাউনলোড লিংক নিচে দিয়ে দিলাম। আপনি চাইলে এখান থেকে খুব সহজেই ডাউনলোড করে নিতে পারেন।

আজকের এই আর্টিকেল থেকে আশা করি আপনারা উপকৃত হতে পেরেছেন। আমার দেখানো এই ৫ টি ফেসবুক, ইউটিউব ও টিকটক ভিডিও এডিটিং অ্যাপস এর মধ্যে আপনার পছন্দের অ্যাপের নাম নিচের কমেন্ট বক্সে জানান। ধন্যবাদ।

Mohammad Robin

আমি মুহাম্মদ রবিন, একজন সৌদি আরব প্রবাসী। আমার বাসা টাংগাইলের কালিহাতীতে। প্রযুক্তি বিষয়ক বিভিন্ন তথ্য নিজে জানার জন্য এবং আপনাদের জানানোর উদ্দেশ্যে এই ওয়েবসাইটটি তৈরি করেছি।

এ সম্পর্কিত আরো পোস্ট

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button
error: Content is protected !!