ইউটিউব

ফেস না দেখিয়ে ভিডিও তৈরি করার জনপ্রিয় সব টপিক আইডিয়া।

প্রযুক্তি প্রিয় ব্লগের আজকের এই আর্টিকেল থেকে আপনি জানতে চলেছেন, কীভাবে আপনি কপিরাইট ফ্রি ভিডিও, ইমেইজ, ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক এবং সাউন্ড ইফেক্ট ব্যবহার করে ফেস না দেখিয়ে ভিডিও তৈরি করে ইউটিউব ও ফেসবুক থেকে ইনকাম করতে পারবেন খুব সহজেই, তাও আবার আপনার হাতে থাকা স্মার্টফোন দিয়ে।

ফেসবুক এবং ইউটিউবের জন্য ভিডিও তৈরি করতে আপনাকে যে আপনার চেহারা দেখাতেই হবে এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই।

সঠিক টুলসের ব্যবহার এবং সৃজনশীলতার সাহায্যে নিজেই বানিয়ে নিতে পারেন ফেসলেস ভিডিও। এবং নিজের চেহারা গোপন করেও ফেসবুক এবং ইউটিউব থেকে মাসে আয় করতে পারেন হাজার হাজার টাকা।

আপনার নিজের ফেস না দেখিয়ে শুধুমাত্র ভয়েস ওভারের মাধ্যমে ভিডিও বানিয়ে ফেসবুক এবং ইউটিউবে অনায়াসে মনিটাইজেসনের মাধ্যমে অনেক বেশি পরিমাণ ইনকাম করতে পারেন, যা অনেকেই করে থাকে।

ফেস না দেখিয়ে ভিডিও তৈরি করে ইউটিউব এবং ফেসবুক থেকে টাকা আয় করার ১০ টি টপিক আইডিয়া।

আমরা অনেকেই আছি যাদের ক্যামেরার সামনে আসার অভ্যাস নেই। হয়তো লজ্জা পাই, না হয় সে সুযোগ হয়ে উঠে না। হয়তো আমাদের ক্যামেরা নেই, ভালো ফোনও নেই যে, তা দিয়েই ভিডিও ধারণ করবো।

তখন হয়তো ভাবি যদি ক্যামেরার সামনে আসা ছাড়াই ভিডিও তৈরি করা যেত! আজকের এই আর্টিকেলে আপনাদেরকে আমি কিছু ফেসবুক ও ইউটিউব নিশ আইডিয়া দিব। সেসব নিশের ভিডিও আপনি ক্যামেরার সামনে আসা ছাড়াই ভিডিও তৈরি করতে পারবেন।

ফেস না দেখিয়ে ইউটিউবের জন্য ভিডিও তৈরির চ্যানেল আইডিয়া।

০১. লাইফস্টাইল ভিডিও।

আপনি চাইলে বড় বড় সেলেব্রিটিদের লাইফস্টাইল নিয়ে ভিডিও তৈরি করতে পারেন। যাদেরকে লক্ষ লক্ষ মানুষ অনুসরণ করে, যাদের জীবনযাপন, পড়াশোনা, পরিবার গাড়ি, বাড়ি ইত্যাদি নিয়ে জানার মানুষের আগ্রহ রয়েছে।

তারা হতে পারে বড় কোনো ইউটিউবার, রাজনীতিবিদ, খেলোয়াড়, অভিনেতা-অভিনেত্রী, সংগীত শিল্পী, ভ্লগার, ইসলামি আলোচক কিংবা ভাইরাল কোনো ব্যক্তি।

এসব ভিডিওতে প্রচুর ভিউ হয়। আর এসব ভিডিও তৈরি করতে প্রয়োজন কিছু কপিরাইট ফ্রি ইমেইজ, ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক এবং কিছু তথ্য আপনি যা মানুষদের জানাতে চান।

আর এসব তথ্য আপনি ইন্টারনেট ঘাটাঘাটি করেই পেয়ে যাবেন। বিশেষ করে গুগল, উইকিপিডিয়া থেকে।

যা ভিডিও এডিট করার সময় আপনি ভয়েস ওভারের মাধ্যমে জানাবেন। সম্ভব হলে কপিরাইট ফ্রি ছোট ছোট ভিডিও ফুটেজ ব্যবহার করতে পারলে আরও ভালো।

০২. মোটিভেশনাল ভিডিও।

আপনি চাইলে মোটিভেশনাল ভিডিও তৈরি করে আপলোড করতে পারেন। মোটিভেশনাল ভিডিওগুলোতে ইউটিউব এবং ফেসবুক দুই প্লাটফর্মেই বেশ ভালো ভিউ হয়।

এই ধরনের ভিডিও বানাতে হলে আপনাকে মোটিভেশনালের যে কথাগুলো আছে সেগুলো লিখতে হবে এবং ভয়েসওভার করতে হবে।

আরও প্রয়োজন হবে কপিরাইট ফ্রি ইমেজ ও ভিডিও। ব্যাকগ্রাউন্ডে সাউন্ড হিসেবেও ব্যবহার করবেন কপিরাইট ফ্রি মিউজিক। মোটিভেশনাল ভিডিওগুলোর চাহিদা কখনও কম হবে না।

এসব ভিডিওর ধরন ভালোভাবে বুঝতে ইউটিউবে গিয়ে মোটিভেশনাল ভিডিও বা Motivational Video লিখে সার্চ করে কিছু ভিডিও দেখে নিতে পারেন।

তাহলে আপনি চাইলে আজই শুরু করে দিতে পারেন। এর জন্য সেজেগুজে ক্যামেরার সামনে এসে চেহারা দেখানোর প্রয়োজন নেই।

০৩. অনলাইন আর্নিং।

আপনি চাইলে অনলাইন আর্নিং এর উপর ভিডিও বানাতে পারেন। আপনি যদি ইউটিউবে গিয়ে “কীভাবে অনলাইন থেকে টাকা আয় করা যায়?” লিখে খোজ করেন তাহলে অনেক ভিডিওই দেখতে পাবেন।

আর এসব ভিডিওতে ভিউস অনেক। তারা বিভিন্ন আর্নিং ওয়েবসাইট এবং অ্যাপস স্ক্রিন রেকর্ডের মাধ্যমে টিউটোরিয়াল ভিডিও তৈরি করে ফেসবুক এবং ইউটিউবে আপলোড করে। এসব ভিডিওর চাহিদা প্রচুর।

আর অনলাইন আর্নিং নিশ নিয়ে কাজ করলে বিভিন্ন আর্নিং ওয়েবসাইট এবং অ্যাপস থেকে সরাসরি ইনকাম করা ছাড়াও রেফার করে সহজেই ইনকাম বাড়াতে পারেন।

আর এই নিশে কাজ করলে খুব সহজেই ইউটিউব চ্যানেল বড়ো করতে পারেন এবং বেশ ভালো পরিমান স্পন্সরশীপ পাবেন।

০৪. টিউটোরিয়াল ভিডিও।

আপনি চাইলে আপনার স্মার্টফোনে একটি স্ক্রিন রেকর্ড করার অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহার করেই তৈরি করে ফেলতে পারেন টিউটোরিয়াল ভিডিও।

স্মার্টফোনে স্ক্রিন রেকর্ড করার জন্য জনপ্রিয় দুইটি অ্যাপ হলো Mobizen এবং AZ Screen Recorder। আপনি কীভাবে বিভিন্ন ওয়েবসাইট এবং অ্যাপে অ্যাকাউন্ট তৈরি করতে হয় সেগুলো টিউটোরিয়াল আকারে ভিডিও তৈরি করতে পারেন।

এছাড়াও জনপ্রিয় সোশ্যাল প্লাটফর্ম এবং অ্যাপগুলোর বিভিন্ন সেটিংস টিউটোরিয়াল আকারে ভিডিও তৈরি করতে পারেন। যেমন: ফেসবুক, ইমো, হোয়াটসঅ্যাপ, ইন্সটাগ্রাম, টেলিগ্রাম, ম্যাসেঞ্জার, থ্রেডস, এক্স, ইউটিউব ইত্যাদি।

০৫. অ্যাপস রিভিউ।

আমরা বিভিন্ন প্রয়োজনে আমাদের ফোনে বিভিন্ন অ্যাপস ইনস্টল করে ব্যবহার করি। প্লে স্টোর এবং অ্যাপ স্টোরে প্রতিনিয়ত নতুন নতুন মোবাইল অ্যাপস যুক্ত হচ্ছে। আপনি চাইলে মানুষের প্রয়োজনীয় বিভিন্ন মোবাইল অ্যাপসের রিভিউ দিয়ে ভিডিও তৈরি করতে পারেন।

প্লে স্টোর এবং অ্যাপ স্টোরে লক্ষ লক্ষ অ্যাপস থেকে আপনাকে প্রয়োজনীয় অ্যাপস খোজে বের করতে হবে এবং কোন অ্যাপের কী কাজ তা মানুষের বোধগম্য হয় এমন সহজ ভাষায় তুলে ধরতে হবে।

আপনি চাইলে একই চ্যানেলে অ্যাপস রিভিউ এবং টিউটোরিয়াল দুই ধরনের ভিডিওই আপলোড করতে পারেন।

০৬. টপ টেন ভিডিও।

আপনি চাইলে ইউটিউব এবং ফেসবুকে টপ টেন নিয়ে কাজ করতে পারেন। লোকেরা টপ ফাইভ এবং টপ টেন ভিডিও দেখতে খুব পছন্দ করে৷ এই ভিডিওগুলি শিক্ষা এবং বিনোদনের একটি নিখুঁত মিশ্রণ।

০৭. রান্নার ভিডিও।

লক্ষ লক্ষ মানুষ প্রতিদিন তাদের খাবার প্রস্তুত করতে রান্নার ভিডিও দেখে।

এই ভিডিওগুলিতে আপনার মুখ দেখানোর প্রয়োজন নেই, শুধুমাত্র রেসিপি অনুসরণ করে ধাপে ধাপে নির্দেশাবলীর একটি ভালো বর্ণনা দিতে হবে।

রেসিপি ছাড়াও, আপনি রান্নার সরঞ্জাম, আপনার রেফ্রিজারেটর কীভাবে সংগঠিত করবেন এবং আরও অনেক কিছুর মতো চটকদার বিবরণ নিয়েও আলোচনা করতে পারেন।

০৮. গ্যামিং ভিডিও।

আমাদের মধ্যে অনেকেই আছে যারা ঘন্টার পর ঘন্টা ফ্রি ফায়ার, পাবজি সহ বিভিন্ন গেম খেলে সময় নষ্ট করে। আপনিও কি তাদের মধ্যে একজন? আপনিও কি গেম খেলতে ভালোবাসেন?

তাহলে আপনার জন্য খুশির খবর। আপনি আপনার গেম খেলার ভিডিও ইউটিউব এবং ফেসবুক আপলোড দিয়ে এবং লাইভ স্ট্রিমের মাধ্যমে অর্থ উপার্জন করতে পারেন।

০৯. স্ট্রেট ফুড ভিডিও।

আমাদের আশেপাশে অনেক স্ট্রেটফুড পাওয়া যায়। সহজ ভাষায় বললে রাস্তার খাবার! আর তা আমরা নিয়মিতই কম-বেশি খেয়ে থাকি।

যেমন: ফুচকা, চটপটি, ঝালমুড়ি, ডালপুরি, হালিম, ভেলপুরি, আচার, কাবাব, বিভিন্ন ধরনে চা, সিঙ্গারা, সমুচা সহ আরও কত কী!

আপনি জানলে অবাক হবেন আপনার হাতে থাকা স্মার্টফোন দিয়ে তা ভিডিও করে আপলোড করতে পারেন। আর এসব ভিডিওতে প্রচুর বিদেশি দর্শক পাবেন। এসব ভিডিওতে ভিউসও হয় অনেক। আর খুব একটা এডিট করারও প্রয়োজন নেই।

১০. অ্যানিমেশন ভিডিও।

আপনি যদি আপনার দর্শকদের জন্য আকর্ষণীয়, আসক্তিপূর্ণ কন্টেন্ট তৈরি করতে চান তবে অ্যানিমেটেড ভিডিও সঠিক পছন্দ।

অ্যানিমেশন জটিল তথ্যকে সহজে ব্যাখ্যা করে যা আপনার দর্শকদের মনোযোগ আকর্ষণ করে এবং তাদের নতুন কিছু শিখতে সাহায্য করে।

YouTube-এর শীর্ষস্থানীয় অ্যানিমেটেড শিক্ষার চ্যানেলগুলির মধ্যে একটি হলো Kurzgesagt – In a Nutshel, যা মাত্র ২১৫ টি ভিডিও দিয়ে ২২ মিলিয়নেরও বেশি সংখ্যক সাবস্ক্রাইবার সংগ্রহ করেছে। 

অ্যানিমেশন ভিডিওতে ফেস দেখাতে হয় না। অ্যানিমেশন ভিডিও বাচ্চাদের অনেক পছন্দ। আপনি জানতে অবাক হবেন বিভিন্ন অ্যাপস, ওয়েবসাইট এবং এআই টুল দিয়ে খুব সহজেই অ্যানিমেশন ভিডিও তৈরি করা যায় এবং সেসব ভিডিওতে মনিটাইজেসন পাওয়াও খুব সহজ।

50% LikesVS
50% Dislikes

Robin Miah

আমি রবিন মিয়া, একজন সৌদি আরব প্রবাসী। আমার বাসা টাংগাইলের কালিহাতীতে। প্রযুক্তি বিষয়ক বিভিন্ন তথ্য নিজে জানার জন্য এবং আপনাদের জানানোর উদ্দেশ্যে এই ওয়েবসাইটটি তৈরি করেছি।

Related Articles

Back to top button
error: Content is protected !!