ব্লগিং টিপস

ব্লগ কী? ব্লগ ওয়েবসাইট থেকে কীভাবে টাকা আয় করা যায়?

ব্লগ কী? (What Is Blogging?)

‘ব্লগ’ হচ্ছে ইংরেজি ‘Blog’ এর বাংলা প্রতিশব্দ। Blog শব্দটি আবার Weblog এর সংক্ষিপ্ত রূপ।  সাধারন ভাষায় ব্লগ শব্দের অর্থ ব্যক্তিগত অনলাইন দিনলিপি বা ব্যক্তিকেন্দ্রিক পত্রিকা।

সহজ করে বললে ব্লগ হচ্ছে এক বিশেষ ধরনের ওয়েবসাইট, যেখানে ব্যক্তি তার নিজের মতামত, লেখা গল্প, কবিতা, প্রবন্ধ এবং ছবি সবকিছুই মানুষের কাছে খুব সহজেই পৌঁছে দিতে পারে। যারা ব্লগ তৈরি বা পরিচালনা করেন তাদেরকে বলা হয় ব্লগার।

আর সহজ ভাষায় বললে ব্লগিং হচ্ছে ব্লগ ওয়েবসাইটে যা লেখা লেখি হয়। ব্লগাররা তাদের ব্লগ ওয়েবসাইটে প্রতিনিয়ত কনটেন্ট যুক্ত করেন আর এর পাঠকরা সেগুলো পড়ে সেখানে তাদের মন্তব্য করতে পারেন।

ব্লগ থেকে টাকা আয় করার উপায়।
ব্লগ থেকে টাকা আয় করার উপায়।

তবে সময়ের পরিবর্তনে ব্লগিং বা ব্লগে লেখালেখি করা শুধু সময় নষ্ট করা নয় কারণ এখন ব্লগিং করে টাকা ইনকাম করা যায়। অনেকেই তো আবার ব্লগিংকে নিজের পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছে।

ব্লগিং এর প্রকারভেদঃ (Types Of Blogging)

ব্লগ ওয়েবসাইটের কনটেন্ট বা পোস্টের ধরনের উপর ভিত্তি করে ব্লগকে বিভিন্ন ভাগে ভাগ করা যায়। সেগুলোর মধ্যে কয়েকটি নিচে তুলে ধরলামঃ-

০১. ব্যাক্তিগত ব্লগ (Personal Blog)

ব্যক্তিগত ব্লগগুলি দর্শকের চাহিদার উপর নির্ভর করে না। ব্লগাররা শুধু তাদের নিজস্ব আগ্রহ অনুযায়ী লেখেন। তাদের শখ, বিশ্বাস, দৈনন্দিন জীবন, রাজনীতি, খেলাধুলা, ধারণা, অভিজ্ঞতা ইত্যাদি।

০২. কর্পোরেট ব্লগ (Corporate Blog)

কর্পোরেট ব্লগগুলো একটি নির্দিষ্ট উদ্দেশ্যে পরিবেশন করে। এবং ব্যবসায়কে কেন্দ্র করে নির্দিষ্ট ব্যবহারকারীদের ক্রমাগত তাদের পরিষেবা সরবরাহ করে। এসব ব্লগ কর্পোরেশন দ্বারা পরিচালিত হয়।

এমন ব্লগকে এন্টারপ্রাইজ ব্লগও বলা যেতে পারে। কর্পোরেট ব্লগগুলি তাদের পণ্য বিক্রয় করার জন্য ইমেইলের মাধ্যমে ব্যবহারকারীদের ডেটাবেস বা বিভিন্ন অফার সামগ্রী সরবরাহ করে।

০৩. নির্দিষ্ট বিষয়ের উপর ব্লগ (Niche Blog)

নিশ ব্লগগুলোতে সাধারণত একটি বিষয়ের উপর লেখালেখি করা হয়। এই ব্লগগুলিতে সাধারণত ট্র্যাফিক কম থাকে। তবে লক্ষ্যযুক্ত পাঠক থাকে। যদি কোনো ব্যক্তির কোনো বিষয়ে গভীর জ্ঞান থাকে তবে সে তা নিয়ে ব্লগিং শুরু করতে পারে।

এসব ব্লগে আয়ের একটি পদ্ধতি হিসাবে আপনি গুগল অ্যাডসেন্স ব্যবহার করতে পারবেন। তাছাড়া আপনার নিজস্ব কোনো পণ্যের মাধ্যমেও আয় করতে পারবেন।

জনপ্রিয় কিছু নিশ ব্লগিং হলোঃ প্রযুক্তি বিষয়ক ব্লগ, স্বাস্থ্য, টিপস এন্ড ট্রিকস, লাইফস্টাইল, ভ্রমণ বিষয়ক ব্লগ ইত্যাদি।

০৪. অ্যাফিলিয়েট ব্লগ (Affiliate Blog)

অ্যাফিলিয়েট ব্লগের মাধ্যমে পণ্য বিক্রি করে অর্থ উপার্জন করে। যেমন একটি ব্লগ পোস্টে পণ্য সম্পর্কে বিস্তারিতভাবে তথ্য দেওয়া হয় পণ্য কেনার লিংক সহ। যাতে ভিজিটররা পণ্য কেনার আগে পণ্য সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য উক্ত ব্লগ সাইট থেকে জেনে নিতে পারে।

এই ব্লগের মাধ্যমে, আপনি যদি সঠিকভাবে অ্যাফিলিয়েট করেন তবে আপনি বেশ ভাল পরিমাণ আয় করতে পারবেন। তবে অ্যাফিলিয়েট ব্লগিং করতে হলে আপনাকে ভালো ভাবে শিখে তারপর কাজে নামতে হবে।

০৫. শিল্পীর ব্লগ (Artist’s Blog)

এসব ব্লগগুলো সাধারণত যারা কোনো শিল্পকর্মের উপর পারদর্শী থাকে তাদের থাকে। শিল্পী তাদের ব্লগে চিত্রকর্ম, অঙ্কন, ভাস্কর্য, সংগীত, ফটোগ্রাফি, লেখার মতো শিল্প প্রকাশ করে থাকে।

০৬. অতিথি ব্লগিং (Guest Blogging)

গেষ্ট ব্লগিং হচ্ছে এমন পদ্ধতি যার মাধ্যমে একজন লেখক কোনো আর্টিকেল লিখে ব্লগারকে দেয় আর ব্লগার সেই লেখাটি পর্যালোচনা করে দেখেন যদি আর্টিকেলটি তার ব্লগ ওয়েবসাইটের জন্য উপযুক্ত মনে করেন তাহলে সে তার ব্লগে তা প্রকাশ করেন।

যাদের নিজের কোনো ওয়েবসাইট নেই তারাও গেষ্ট ব্লগিং করে তাদের লেখা প্রকাশ করতে পারেন। আবার যাদের ব্লগ ওয়েবসাইট আছে তারাও গেষ্ট ব্লগিং করে তাদের ব্লগ সাইটের জন্য লিংক বিল্ড করে। গেষ্ট ব্লগিং কে গেষ্ট পোস্টিংও বলা হয়।

ব্লগিং কেন করবেন? (Why Do Blogging?)

অনলাইন থেকে টাকা আয় করার বিভিন্ন উপায় রয়েছে। যার সবগুলো উপায়ই জটিল। তবে ব্লগিং বিষয়টা অপেক্ষাকৃত সহজ। ব্লগিং করার সুবিধা অনেক।

অতি অল্প সময়ের ব্লগিং সম্পর্কে ভালো জ্ঞান লাভ করা যায়। আপনি যেকোনো পরিবেশে যেকোনো সময় আপনার ব্লগের জন্য আর্টিকেল লিখতে পারেন। তাছাড়া ব্লগিং এর জন্য কম্পিউটার আবশ্যক নয়।

আপনি চাইলে আপনার হাতে থাকা স্মার্টফোনটি দিয়েই ব্লগিং শুরু করতে পারেন। নিজের ব্লগ সাইট অথবা অন্যের সাইটে ব্লগিং করেও বেশ ভালো পরিমাণ অর্থ উপার্জন করতে পারবেন।

ব্লগিং করে কিভাবে আয় করা যায়? (How To Earn Money From Blogging)

ব্লগিং থেকে আয় করার বিভিন্ন উপায় রয়েছে। তবে সব চেয়ে সহজ ও জনপ্রিয় কিছু ব্লগিং করে আয় করার উপায় নিচে তুলে ধরলাম।

০১. বিজ্ঞাপন থেকে আয়ঃ

ব্লগিং থেকে ইনকাম করার সব থেকে প্রচলিত উপায় এটি। দেশী বিদেশী বড় বড় ব্লগাররাও তাদের ব্লগ ওয়েবসাইটে বিজ্ঞাপন দেখিয়ে আয় করেন।

ব্লগ ওয়েবসাইটে বিজ্ঞাপন দেখানোর জন্য বিভিন্ন এড নেটওয়ার্ক রয়েছে। ব্লগার বলেন কিংবা বিজ্ঞাপনদাতা উভয়েরই সব চেয়ে প্রিয় এড নেটওয়ার্ক হচ্ছে গুগল এডসেন্স।

আপনার ব্লগে কীভাবে গুগল এডসেন্সের বিজ্ঞাপন  দেখিয়ে আয় করবেন?

আপনার ব্লগ ওয়েবসাইটে গুগল এডসেন্স নেটওয়ার্কের বিজ্ঞাপন প্রকাশ করার পূর্বে আপনাকে আবেদন করতে হবে। আবেদন মঞ্জুর হলে উক্ত এড নেটওয়ার্কের বিজ্ঞাপনের কোড আপনার ব্লগ ওয়েবসাইটে বসাতে হবে।

তারপর আপনার ব্লগ ওয়েবসাইটে বিজ্ঞাপন দেখানো হবে। এবার আপনার ব্লগ ওয়েবসাইটে পাঠকরা যখন ওই বিজ্ঞাপনে ক্লিক করবে তখন টাকা জমা হবে আপনার অ্যাকাউন্টে।

আরো পড়ুন: নতুন ব্লগ ওয়েবসাইটে কীভাবে সহজে গুগল এডসেন্স পাওয়া যায়?

০২. অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করে আয়ঃ

ব্লগ সাইটে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করে বেশ ভাল পরিমাণ আয় করা সম্ভব। ব্লগে আর্টিকেল লেখার মাধ্যমে কোনো পণ্য বা পরিষেবার প্রচার করতে হবে আপনাকে। পণ্য বা পরিষেবাটি বাছাই করতে হবে অবশ্যই সতর্কতার সাথে।

এরজন্য গবেষণা ও বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন। পণ্য বা পরিষেবাটি প্রচার করার সময় হতে হবে সাবধানী ও কৌশলী। আপনার ব্লগে পণ্য বা পরিষেবার প্রচার এমন ভাবে করতে হবে যাতে ব্লগের পাঠকরা কোনো প্রকার বিরক্ত না হয়।

কিভাবে এটি কাজ করে?

প্রথমেই আপনাকে আপনার পছন্দের অ্যাফিলিয়েট নেটওয়ার্ক এ নিবন্ধন করে আবেদন করতে হবে। আর আবেদন মঞ্জুর হলে মার্কেটিং করার জন্য আপনি আপনার পছন্দের পণ্য বা পরিষেবাটির বেছে নিন।

তারপর আপনার ব্লগ পোস্টে লেখার সঙ্গে পণ্য বা পরিষেবাটি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য দিতে হবে সাথে পণ্য ও পরিষেবাটির লিংক সহ। যখন কোনো পাঠক সেই লিংকে প্রবেশ করে পণ্য বা পরিষেবাটি গ্রহণ করবেন তখন আপনি তার নির্দিষ্ট পরিমাণ কমিশন পাবেন।

আর কমিশনের পরিমাণ নির্ভর করে পণ্য এবং উক্ত ওয়েবসাইটের উপর। তবে ব্লগ ওয়েবসাইট থেকে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এর মাধ্যমে আয় করতে আপনাকে অবশ্যই ভালোভাবে শিখে তারপর কাজে নামতে হবে। অন্যথায় আপনি সফল হতে পারবেন না।

০৩। নিজের পণ্য বিক্রি করে আয়ঃ

ব্লগ থেকে সব চেয়ে স্থায়ী ও নিশ্চিত আয়ের উপায় হচ্ছে এটি। এই পদ্ধতিতে আয়ের উপর সবথেকে বেশি নিয়ন্ত্রণ রাখা সম্ভব। কারণ পণ্য ডিজাইন থেকে শুরু করে দাম নির্ধারণ, মার্কেটিং পুরোটাই ব্লগার নিজে করেন।

নিজের পণ্য বিক্রি করে কিভাবে আয় করবেন?

নিজের দক্ষতা অনুযায়ী পণ্য বা পরিষেবা তৈরি করুন। তা হতে পারে ইবুক, ভিডিওকোর্সের মত ডিজিটাল পণ্য বা বই, কুকি অথবা অন্য কোনো পণ্য বা পরিষেবা।

তৈরি করা পণ্য বা পরিষেবাটির মূল্য নির্ধারণ করুন।তারপর তা ব্লগের মাধ্যমে প্রচার করুন। অবশ্যই পণ্য বা পরিষেবাটির ব্যবহার ও উপযোগীতা সহ বিস্তারিত তথ্য লিখবেন।

তবে তার পূর্বে অবশ্যই আপনার পণ্যটি কিভাবে ক্রেতার কাছে পৌঁছে দেবেন এবং ক্রেতা কিভাবে মূল্য পরিশোধ করবে তা ঠিক করে নিবেন। মূল্য সংগ্রহের পদ্ধতি হতে পারে পেপ্যাল, নগদ, বিকাশ, চেক অথবা অন্য কোনো সহজ মাধ্যম।

০৪। ব্লগের মাধ্যমে ফ্রিল্যান্সঃ

আপনি ব্লগিং করছেন মানে কোনো না কোনো নির্দিষ্ট বিষয়ের উপর নিশ্চয়ই কিছু জ্ঞান ও দক্ষতা রয়েছে। যেমনঃ তা হতে পারে ভালো ছবি আঁকতে পারা, অনেক ভালো কেক বানাতে পারা কিংবা অন্য কোনো কিছু।

আপনার যেই দক্ষতাই থাকুক না কেনো তা আপনার ব্লগে প্রচার করুন ও ফ্রিল্যান্স কাজ জোগার করে নিন।

ব্লগে কিভাবে ফ্রিল্যান্সিং করবেন?

ফ্রিল্যান্সার হিসেবে আপনি কী কী কাজ জানেন তা আপনার ব্লগে সংক্ষেপে লিখে পাঠকদের জানান। আপনার কাজের প্রতি তাদের আগ্রহ তৈরি করুন।

আরো লিখুন কেন একজন আপনাকে কাজ দেবে, অন্যদের থেকে আপনি কোথায় এগিয়ে, তা উল্লেখ করুন সাথে আপনার সঙ্গে যোগাযোগের উপায়।

যত বেশি সংখ্যক লোক আপনার দক্ষতা সম্পর্কে জানবে আপনার কাজের সুযোগও ততই বাড়বে। তবে যখন কোনো প্রজেক্ট নিবেন, তা অবশ্যই পেশাদারিত্বের সঙ্গে শেষ করতে হবে।

০৫। ব্লগে সরাসরি বিজ্ঞাপন প্রকাশ করে আয়ঃ

অ্যাড নেটওয়ার্ক বাদ দিয়ে অথবা অ্যাড নেটওয়ার্ক ব্যবহারের পাশাপাশি ব্লগ থেকে টাকা আয়ের আরো একটি মাধ্যম হলো কোনো কোম্পানির সঙ্গে সরাসরি কথা বলে তাদের বিজ্ঞাপন প্রচার করা। তবে এর জন্য আপনার ব্লগ সাইটটি অবশ্যই জনপ্রিয় হতে হবে।

এর জন্য কী করতে হবে?

নিজে থেকে বিভিন্ন কোম্পানির সাথে যোগাযোগ করুন অথবা আপনার ব্লগে বিজ্ঞাপন দেওয়ার জন্য কী করতে হবে সেই বিবরণ লিখে একটি পেজ তৈরি করুন যাতে যারা আপনার ব্লগে বিজ্ঞাপন দিতে আগ্রহী তারা আপনার সাথে যোগাযোগ করতে পারে।

আর আপনার ব্লগে বিজ্ঞাপনের মূল্য নির্ধারণ করুন। ওয়েবসাইটের হেডার, ফুটার, সাইডবার বা লেখার মধ্যে বিভিন্ন যায়গায় বিজ্ঞাপন দেখাতে পারবেন।

তাই অবস্থান বুঝে ভিন্ন ভিন্ন মূল্য নির্ধারণ করুন। পাঠকদের ক্লিকের উপর নির্ভর করে অথবা মাসিক বা সাপ্তাহিক হিসেবে মূল্য ধার্য্য করতে পারেন।

Mohammad Robin

আমি মুহাম্মদ রবিন, একজন সৌদি আরব প্রবাসী। আমার বাসা টাংগাইলের কালিহাতীতে। প্রযুক্তি বিষয়ক বিভিন্ন তথ্য নিজে জানার জন্য এবং আপনাদের জানানোর উদ্দেশ্যে এই ওয়েবসাইটটি তৈরি করেছি।

এ সম্পর্কিত আরো পোস্ট

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button
error: Content is protected !!