এআই

AI কন্টেন্ট সনাক্তকরণ ওয়েবসাইট। | চ্যাট জিপিটি টেক্স ডিটেক্টর টুল।

কোনো কন্টেন্ট AI বা Chat GPT দিয়ে লেখা হয়েছে কিনা তা যাচাই করার উপায়।

কনটেন্ট হচ্ছে যেকোনো ওয়েবসাইট কিংবা প্ল্যাটফর্মকে জীবিত রাখার মূল হাতিয়ার। কনটেন্টের বদৌলতে ব্যবহারকারীকে নির্দেশনা, আমন্ত্রণ, সচেতনতা সহ যেকোনো বিষয়ের পূর্ণাঙ্গ ধারণা দেয়া সম্ভব। সেটা হতে পারে অডিও এবং ভিডিও এর সমন্বয়ে তৈরি কোনো কিছু কিংবা লেখকের লেখনি দ্বারা।

একজন প্রকৃত রাইটার (লেখক/Writer) পাঠকের চাহিদা বুঝে এবং চাহিদা মাফিক কন্টেন্টের যোগান দেয়। রাইটারের লেখনিতে যেমন পাঠকের মন-প্রাণ জুড়ে যায় এবং একজন পাঠক আসলে যা জানতে চায় তার সবটুকু লেখকের লেখনীতে বিদ্যমান থাকলে, পাঠক এতে পুষ্ট হলে তাহলে বলা যায় রাইটারের লেখনি স্বার্থক।

তবে আজ আপনাদের সম্মুখে আমরা যে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করতে চাই তা হলো, কোনো কনটেন্ট রাইটারের লেখার মাধ্যমে তৈরি না কি কোনো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (Artificial Intelligence) সাহায্যে তৈরি করা তা যাচাই করার নিয়ম। তবে তার আগে চলুন জেনে নেওয়া যাক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (Artificial Intelligence) মূলত কী?

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) কী? 

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) হলো, মেশিন বা প্রোগামের মাধ্যমে মানুষের বুদ্ধিমত্তার অনুকরণ করা। অথবা বলা যেতে পারে মানুষের মত চিন্তা করতে পারে এমন প্রোগ্রামকে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা বলা হয়। কৃত্রিম উপায়ে এই বুদ্ধিমত্তার প্রোগ্রাম তৈরি করা হয় বলে এমন নাম। এই মেশিন বা প্রোগ্রামগুলো মানুষের মতো চিন্তা করা ও মানুষের কাজের অনুকরণ করার জন্য তৈরি করা হয়।

ধরুন, আপনার যেকোনো বিষয় বা ক্যাটাগরীর উপর একটি ব্লগ ওয়েবসাইট আছে। আর প্রতিনিয়ত পাঠকের চাহিদা মতো আর্টিকেল যোগান দিতে এবং সাইটটিকে সচল রাখতে আপনি একা পারছেন না। তখন তো আপনাকে বহিরাগত লেখক বা রাইটাররের সাহায্য নিতে হয়।

সেক্ষেত্রে রাইটার চাহিদা মতো আপনার কনটেন্ট যোগান দিলো ঠিকই কিন্তু আপনি হয়তো তার লেখা যাচাই-বাছাই না করেই আপনার সাইটে প্রকাশের অনুমতি দিচ্ছেন। সবশেষে প্রশ্ন থাকতে পারে যে, রাইটার কি নিজে কনটেন্ট লিখলো না কি কোনো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (AI) সহায়তা নিয়ে কাজটি সমাপ্ত করলো?

বর্তমানে কিছু সংখ্যক রাইটাররা নিজের কাজকে ত্বরাণিত করতে সুযোগ নিচ্ছে AI বা ChatGPT-কে কাজে লাগিয়ে। যা একজন অ্যাডমিন হিসেবে আপনি ধরতে পারছেন না। লেখাটির অরিজিনাল বা মূল লেখক কোনো স্বয়ংক্রিয় বোট নয়তো? তা চেক করতে কিংবা কনটেন্টের মান চেক করতে দারস্থ হতে হবে বিভিন্ন অনলাইন টুলসের উপর।

আসলে আপনার হাতে পাওয়া লেখাটি কি AI দিয়ে লেখা কিনা তা যাচাই করা যায়। সবিস্তারে নিম্নোক্ত আলোচনা তুলে ধরা হলো:

রাইটার যদি কোনো ভাবে বুঝতে পারে যে, আপনি কন্টেন্ট কোয়ালিটি চেক করতে পারদর্শী নন তাহলে সে আপনাকে ঠকানোর চেষ্টা করতে পারে। আসলে কন্টেন্ট রাইটিং একটা Complete Package এর মতো। একজন ভালো কন্টেন্ট রাইটার হতে গেলে তাকে ইংলিশ গ্রামার এবং সেনটেন্স মেকিংএ অনেক Strong ও Experienced হতে হয়।

এছাড়াও এসইও, ব্লগিং, অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিংয়ের কিছুটা ধারণা থাকতে হয়। Journalism এর জ্ঞান থাকলে সেটা প্লাস পয়েন্ট হিসেবে কাজ করে। কারণ তখন লেখক পাঠকের চাহিদা সহজেই বুঝতে পারে।

এ সম্পর্কে আমরা একটি বাস্তব অবিজ্ঞতা তুলে ধরি,
রাইটিং এজেন্সি চালাতে গিয়ে গত কয়েক বছরে রাইটাররা কী কী ভাবে ধোকা দেওয়ার চেষ্টা করে সে বিষয়ে খুব ভালোই অভিজ্ঞতা হয়েছে। কিছুদিন আগে লাইভ কলে আমার বেশকিছু রাইটারের লেখা চেক করছিলাম। একজন রাইটারের Introduction এর দুই লাইন পড়ার পর বুঝতে পেরেছিলাম রাইটার তার আর্টিকেল লিখতে AI/ChatGPT ব্যবহার করেছে।

এই নিয়ে আমার সন্দেহ হলে জিজ্ঞেস করার পর সে অস্বীকার করে। দুই দিন আগেই এক ভাই এর পোস্টে কমেন্ট করে বলেছিলাম যে, AI/ChatGPT এর লেখা কন্টেন্ট এ প্রচুর অসামঞ্জস্যপূর্ণ/অপ্রাসঙ্গিক শব্দ থাকে যা পুরো বাক্যের অর্থই বদলে দেয়।

আমি যখন রাইটারকে একে একে যুক্তি তুলে ধরতে শুরু করি তখন সে শেষ পর্যন্ত স্বীকার করতে বাধ্য হয় যে, সে Chat GPT দিয়ে লিখে কিছুটা এডিট করে জমা দিয়েছে। আমি যেহেতু শুধুমাত্র মানুষের লেখা কন্টেন্ট নিয়ে কাজ করি তাই ঐ রাইটারকে টিম থেকে বাদ দিয়ে দিয়েছি।

AI টুল ব্যবহার করে লেখা কন্টেন্ট কি গুগলে র‍্যাঙ্ক করানো যায়?

না, চ্যাট জিপিটি বা AI (Artificial Intelligence) টুল ব্যবহার করে লেখা কন্টেন্ট গুগলে র‍্যাঙ্ক করে না। কারণ, চ্যাট জিপিটি বা AI দ্বারা তৈরি করা কন্টেন্ট পাঠকদের কোনো মূল্য দেয় না। এবং তা সার্চ ইঞ্জিনের ওয়েবমাস্টার নির্দেশিকাগুলোর বিরুদ্ধে যায়।

গুগলের সার্চ অ্যাডভোকেট জন মুলারের মতে, মেশিন দ্বারা লিখিত কন্টেন্ট “স্প্যাম” হিসাবে বিবেচিত হয়।

এআই জেনারেট করা কন্টেন্ট এমনভাবে দেখা যাবে যেন আপনি শুধু প্রতিশব্দ খুঁজছেন বা শব্দগুলোকে এলোমেলো করে ফেলছেন, অথবা একই পুরানো অনুবাদের কৌশলগুললো করছেন যা মানুষ গত এক দশকে করত। তাই চ্যাট জিপিটি বা AI দ্বারা তৈরি করা কন্টেন্ট আপনার ওয়েবসাইটে পোস্ট করে কোনো ভিজিটর পাবেন বা সেগুলো সার্চ ইঞ্জিনে র‍্যাংক করবে এসব আশা কতা বোকামি।

কীভাবে বুঝবেন কোন কন্টেন্টটি AI টুল ব্যবহার করে লেখা?

কোনো কন্টেন্ট অনলাইন টুল ব্যবহার করে লেখা কি না এ সম্পর্কে জানতে হলে বা কোনো কিছু বুঝতে হলে আপনাকে আরও সচেতন হতে হবে সেই সাথে থাকতে হবে ইংরেজির উপর সামগ্রিক দক্ষতা। টপিক যদি বাংলা হয় তাহলে আপনি লেখনিতে ব্যবহৃত শব্দ বা বাক্যের অসামঞ্জস্যপূর্ণ/অপ্রাসঙ্গিকতা দেখলেই সহজে বুঝে নিতে পারবেন।

এছাড়াও আপনি Chat GPT-তে প্রশ্ন করতে পারেন যে, এই আর্টিকেল তার দ্বারা লেখা হয়েছে কিনা। তবে সে লিখাটি তার দ্বারা লেখা কিনা এ প্রশ্নের কোনো পজেটিভ উত্তর আদৌ শতভাগ পাওয়া যাবে কিনা তার নিশ্চয়তা দিচ্ছি না, তো একবার দেখে নিলে মন্দ হয় না।

এজন্য চাইলে আপনি আর্টিকেলের যেকোনো একটা প্যারা উঠিয়ে নিচে লিখতে পারেন, is this written by ChatGPT?

AI ডিটেক্টর টুল দিয়ে কনটেন্ট চেক করা গেলেও তারা কখনোই শতভাগ সঠিক তথ্য দেয় না। অনেক সময় দেখা যায় AI দিয়ে লেখানো কনটেন্টকে হিউম্যান রিটেন কন্টেন্ট বানিয়ে দেয়। আবার কখনো মানুষের লেখা কনটেন্টকে এআই রিটেন কন্টেন্ট বানিয়ে দেয়।

আপনি যদি চেষ্টা করেন তাহলে আপনি নিজেই কোন লেখা এআই দিয়ে লেখা এবং কোন লেখা মানুষ দিয়ে লেখা আপনি বুঝতে পারবেন। এক্ষেত্রে এখানে সবার মতামত আলাদা। কারো সাথে কারো মিল পাবেন না। আপনাক এই জিনিসগুলো রিসার্চ করতে হবে।

আসলে আর্টিকেলের মান ভালো করতে হলে এআই ব্যবহার না করে লিখলেই ভালো হবে। কিন্তু একটা কথা সহজে মনে রাখবেন যেই ডিটেক্টরগুলো ডিটেক্ট করে সেগুলো শুধুমাত্র কয়েকটি অ্যালগরিদমকে লক্ষ্য রেখে কাজ করে কিন্তু শতভাগ নিশ্চয়তা কখনোই দিবেনা, সর্বোচ্চ হলে পঞ্চাশ ভাগ পর্যন্ত সঠিক ধারণা দিতে পারবে।

কয়েকটি এআই কন্টেন্ট ডিটেকশন টুলস: ফ্রি চ্যাটজিপিটি আউটপুট ডিটেক্টরের নাম।

আপনাদের সুবিধার্থে কয়েকটি AI Content Detector অনলাইন টুলসের নাম নিচে দেওয়া হলো। যদি আপনার বিষয়বস্তু বা কনটেন্ট নিয়ে কোনো সন্দেহ পোষণ হয় তাহলে এই কনটেন্ট বা আর্টিকেল AI দ্বারা তৈরি কিনা, তাহলে সর্বোচ্চ ১৫০০টি অক্ষর কিংবা তারও কম অক্ষরের আর্টিকেলের লেখা চেক করতে পারবেন বিনামূল্যের ডিটেক্টর ব্যবহার করে।

এআই কন্টেন্ট সনাক্তকরণ Detector আর্টিকেলটি AI লেখার সফ্টওয়্যার বা মানব লেখক দ্বারা তৈরি হয়েছে কিনা তা নির্ধারণ করতে আর্টিকেলটি স্ক্যান বা বিশ্লেষণ করতে সহায়তা করে। যদিও সেখানে এই ধরনের অনেক টুল আছে, সব টুল একই রকম নয়।

আজকে ২০২৩ সালের ৭টি সেরা AI আর্টিক্যাল সনাক্তকরণ টুল প্রকাশ করব৷ এখানে যেসব টুলসের কথা বলবো সেগুলো অন্যান্য মাধ্যম হিসাবেও ব্যবহার করা যায়। যেমন: আর্টিকেল জেনারেটর, কপি চেকার বা কীওয়ার্ড সফ্টওয়্যার, উত্সর্গীকৃত ছাড়াও বিষয়বস্তুর বাস্তবতা বা জালতা পরীক্ষা করার জন্য কাজ করে।

০১. writer.com
০২. Contentatscale.ai
০৩. Copyleaks.com
০৪. Crossplag.com
০৫. Smodin.io
০৬. Originality.ai
০৭. Gptzero.me

আরও কোনো প্রশ্ন থাকলে আমাদের কমেন্ট বক্সে লিখে জানাতে পারেন। আমরা আপনার প্রশ্নের উত্তর দিতে চেষ্টা করব। ধন্যবাদ।

100% LikesVS
0% Dislikes

Ahmed Ariyan

একজন প্রযুক্তি প্রিয় মানুষ।
Back to top button
error: Content is protected !!