ইন্টারনেট টিপস

মোবাইল নাম্বার দিয়ে পরিচয় বের করার উপায়গুলো জেনে নিন।

একটা সময় ছিল যখন মানুষ যোগাযোগের জন্য চিঠি আদান-প্রদান করতো। আর সেই চিঠি প্রাপকের নিকট গিয়ে পৌছাতে কয়েক সপ্তাহ, এমনকি কয়েক মাস পর্যন্ত সময় লেগেযেত।

তবে বর্তমানে প্রযুক্তির কল্যাণে আমরা মূহুর্তের মধ্যেই মুঠোফোনের সাহায্যে বিশ্বের যেকোনো প্রান্তে যোগাযোগ করতে পারি।

প্রযুক্তি আমাদের জীবনকে অনেক সহজ করে দিয়েছে। তবে প্রযুক্তির এই সহজ ব্যবহার অনেক সময় বিড়ম্বনার সৃষ্টি করে।

যেমন, দেখা যায় কোনো অচেনা নাম্বার থেকে আমাদের প্রচুর বিরক্ত করা হয়। আবার কখনও হয়তো হুমকি পর্যন্ত দেওয়া হয়ে থাকে।

তখন আমাদের সেই অপরিচিত নাম্বার থেকে যে কল দেয় তার পরিচয় জানার ইচ্ছে হয়। তবে শুধুমাত্র মোবাইল নাম্বার দিয়ে পরিচয় বের করার উপায় জানা না থাকার কারণে আমরা সেই বিরক্তকারীর পরিচয় জানতে পারি না।

তবে চিন্তার কোনো কারণ নেই, প্রযুক্তি প্রিয়‘র আজকের এই আর্টিকেল থেকে আমরা ফোন নাম্বার দিয়ে পরিচয় বের করার উপায় সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করবো।

আশা করি, আজকের এই আর্টিকেল থেকে আপনি কিছুটা হলেও উপকৃত হবেন। তাই পুরো আর্টিকেলটি মনোযোগ দিয়ে পড়ুন।

তাহলে এরপর থেকে আপনার কিংবা আপনার পরিচিত কারো ফোনে কোনো অপরিচিত নাম্বার থেকে কল কিংবা ম্যাসেজ দিয়ে বিরক্ত করলে সেই ফোন নাম্বার দিয়ে বিরক্তকারীর পরিচয় বের করতে পারবেন।

কারো মোবাইল নাম্বার দিয়ে পরিচয় বের করার জন্য ৩টি নিয়ম রয়েছে। আমি সেই ৩টি নিয়মই আপনাদের সামনে তুলে ধরবো।

আপনি সবগুলো নিয়ম পড়বেন এবং আপনি আপনার প্রয়োজন অনুযায়ী সেগুলো অনুসরণ করবেন।

মোবাইল নাম্বার দিয়ে পরিচয় বের করার উপায়সমূহ।

★ মোবাইল নাম্বার দিয়ে পরিচয় বের করার অ্যাপ ব্যবহার করে।
★ ম্যাসেজিং অ্যাপস ব্যবহার করে।
★ পুলিশ বা প্রশাসনের সাহায্য নেওয়া।

উপরে যে তিনটি উপায়ের কথা বললাম এবার চলুন সেগুলো বিস্তারিত ভাবে জেনে নেওয়া যাক-

মোবাইল নাম্বার দিয়ে পরিচয় বের করার সফটওয়্যার।

অনলাইনে বেশ কিছু সফটওয়্যার রয়েছে, যেগুলো দিয়ে অপরিচিত নাম্বারের মালিকের নাম জানতে পারবেন।

মোবাইল নাম্বার দিয়ে পরিচয় বের করার অ্যাপগুলোর মধ্যে Truecaller নামের অ্যাপটি অনেক ভালো কাজ করে।

এই অ্যাপটি যদি আপনি আপনার ফোনে ইন্সটল করে রাখেন তাহলে কোনো অপরিচিত নাম্বার থেকে কল আসলেই তার নাম জানতে পারবেন।

আপনি চাইলে অ্যাপটিতে প্রবেশ করে যেকোনো নাম্বার খোঁজ করেও তার নাম ও ছবি দেখে ফেলতে পারেন।

Truecaller অ্যাপ্লিকেশনটি ব্যবহার করা কি নিরাপদ?

Truecaller অ্যাপটি ব্যবহারের আগে আপনাকে জানতে হবে এটি কীভাবে কাজ করে আর এই অ্যাপটি আপনার জন্য নিরাপদ কিনা।

Truecaller অ্যাপটি যেসব ফোনে ইনস্টল করা থাকে তারা সেসব ফোন থেকে ডেটা সংগ্রহ করে রাখে।

আর যখন কোনো ব্যক্তি আপনাকে কল করবে এবং কোনো Truecaller ব্যবহারকারীর ফোনে যদি তার নাম্বারটি সেভ থাকে তাহলে আপনার কাছে তার নাম চলে আসবে।

আপনি যখন আপনার ফোনে এই অ্যাপটি ইনস্টল করবেন তখন আপনার ফোনের ডেটাগুলোও তারা একই ভাবে নিয়ে নিবে এবং অন্য Truecaller ব্যবহারকারীকে তা দেখাবে।

আপনার ফোনে সেভ রাখা সকল কন্টাক্ট তারা তাদের ডেটাবেজে আপলোড করে রাখবে।

তাই এসব প্রাইভেসি জনিত সমস্যার কারণে আমি কখনোই আপনাকে এসব অ্যাপস ব্যবহারের পরামর্শ দিব না। বরং এসব অ্যাপ ব্যবহার না করার জন্য সতর্ক করবো।

Truecaller সফটওয়্যার ডাউনলোড করবেন যেভাবে।

এতকিছু জানার পরেও যদি আপনি Truecaller সফটওয়্যার ব্যবহার করতে চান তাহলে করতে পারেন। সফটওয়্যারটি ডাউনলোড করতে গুগল কিংবা প্লেটোরে Truecaller লিখে খোঁজ করলেই পেয়ে যাবেন।

নাম্বার দিয়ে পরিচয় বের করার সফটওয়্যার

অথবা আপনি চাইলে সরাসরি এখান থেকেও ডাউনলোড করে ব্যবহার করতে পারবেন।

আরো পড়ুন: পরিচিত আইডি থেকে টাকা চেয়ে ম্যাসেজ? টাকা পাঠানোর আগে যা করণীয়।

ম্যাসেজিং অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহার করে পরিচয় বের করা।

কলিং এবং ম্যাসেজিং অ্যাপ্লিকেশনগুলোতে অ্যাকাউন্ট খুলতে সাধারণত ফোন নাম্বারের প্রয়োজন হয়।

আর এসব বেশিরভাগ অ্যাপ্লিকেশনগুলোতে ফোন নাম্বার ব্যবহার করেই একে অপরের সাথে সংযুক্ত হতে হয়।

এমন কিছু জনপ্রিয় মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন হলো, ইমো (Imo), হোয়াটসঅ্যাপ (WhatsApp), ভাইবার (Viber), টেলিগ্রাম (Telegram)।

আপনারও যদি এসব অ্যাপ্লিকেশনগুলোতে অ্যাকাউন্ট থেকে থাকে তাহলে আপনি খুব সহজেই অপরিচিত নাম্বার আপনার ফোনে সেভ করে রেখে পরিচয় জেনে নিতে পারেন।

কারণ আমাদের দেশের বেশিরভাগ মুঠোফোন ব্যবহারকারীই ইমো এবং হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজিং অ্যাপ্লিকেশন দু’টি ব্যবহার করে অভ্যস্ত।

বিশেষ করে, ইমো অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহারকারীর সংখ্যা আমাদের দেশে প্রচুর।

আপনি যখন কোনো নাম্বার আপনার ফোনে সেভ করে রাখবেন, ঐ সেভ করা নাম্বার দিয়ে যদি কোনো ইমো, হোয়াটসঅ্যাপ কিংবা অন্য কোনো অ্যাকাউন্ট থেকে থাকে তাহলে সেই নাম্বার দিয়ে খুলা আইডি নিজে থেকেই চলে আসবে।

আর আপনি তখন ঐ ব্যক্তির আসল নাম ও প্রফাইলে দেওয়া ছবি দেখে পরিচয় সনাক্ত করতে পারবেন খুব সহজেই।

তবে একটি কথা, আপনি যদি ঐ অপরিচিত নাম্বার আপনার ফোনে সেভ করে রাখেন, তাহলে তার আইডি যেমন আপনার ফোনে চলে আসবে, ঠিক তেমনই আপনার আইডিও তার কাছে চলে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

তাই আপনি যদি সেই অপরিচিত নাম্বার আপনার ফোনে সেভ না করেই তার পরিচয় জানতে চান তাহলে সে উপায়ও আমাদের কাছে আছে।

ধরুন, আপনি জানতে চাচ্ছেন কোনো একটি নাম্বার দিয়ে ইমো অ্যাকাউন্ট খুলা আছে কিনা তাহলে এর জন্য আপনি আপনার ইমো অ্যাপ্লিকেশনটি খুলুন এবং ইমোর সার্চ অপশনে সেই নাম্বারটি লিখুন।

নাম্বারটি অবশ্যই কান্ট্রি কোড সহ লিখতে হবে। ধরুন, আপনি বাংলাদেশী কোনো নাম্বার চেক করতে চাচ্ছেন তাহলে নাম্বারটি হবে +8801xxxxxxxxx এমন, কারণ বাংলাদেশের কান্ট্রি কোড হচ্ছে +880।

নাম্বার লিখে এন্টার করলেই ঐ নাম্বারে যদি কোনো ইমো আইডি খুলা থাকে তাহলে তা চলে আসবে।

আপনি সেখান থেকে ঐ আইডির নাম ও ছবি দেখতে পারবেন। চাইলে ঐ ইমো আইডি আপনার ইমোতে এডও করতে পারবেন।

আর আপনি যদি সেই অপরিচিত নাম্বার দিয়ে কোনো হোয়াটসঅ্যাপ আইডি আছে কিনা তা দেখতে চান, কিন্তু আপনি চাচ্ছেন না তার নাম্বারটি আপনার ফোনে সেভ করতে, তাহলে কীভাবে তা দেখবেন?

এর জন্য আপনাকে যা করতে হবে তা হলো, প্রথমে যেকোনো ব্রাউজার খুলুন এবং সেটির এড্রেস বারে “wa.me/+880” লিখে প্রবেশ করুন।

এখানে “wa.me/” লেখার পরে আপনি যে নাম্বার চেক করতে চাচ্ছেন সেই হোয়াটসঅ্যাপ নাম্বারটি কান্ট্রি কোড সহ দিতে হবে। তবে কোনো ফাঁকা (Space) রাখা যাবে না। তারপর এন্টার চাপুন।

নিচের চিত্রে আমি সৌদি আরবের একটি নাম্বার দিয়ে দেখালাম।

প্রযুক্তি প্রিয় ডট কম।

Enter/Go করার পর ব্রাউজারে একটি পেইজ খুলে যাবে। উক্ত পেইজে “CONTINUE TO CHAT” লেখা একটি বাটন দেখতে পাবেন। (নিচের চিত্রটি লক্ষ করুন)

প্রযুক্তি প্রিয় ডট কম।
প্রযুক্তি প্রিয় ডট কম।

সেখান থেকে “CONTINUE TO CHAT” বাটনে ক্লিক করুন। তাহলে যদি ঐ নাম্বার দিয়ে কোনো হোয়াটসঅ্যাপ আইডি খুলা থাকে তাহলে তা দেখতে পাবেন।

পুলিশ বা প্রশাসনের সাহায্য নেওয়া।

আপনাকে যদি কেউ ফোনে হুমকি দেয় কিংবা অত্যাধিক বিরক্ত করে তাহলে আপনি পুলিশ বা প্রশাসনের কাছে অভিযোগ দায়ের করতে পারেন।

এজন্য বিস্তারিত লিখিতভাবে পুলিশের কাছে আবেদন করতে হবে। আবেদনটি নিকটস্থ থানায় কর্তব্যরত কর্মকর্তার কাছে জমা দিতে হবে।

ডিউটিরত অফিসার সেই আবেদন গ্রহণ করবেন এবং একটি সাধারণ ডায়েরি বা জিডি করবেন। এবং আবেদনকারীকে একটি জিডি নম্বর প্রদান করবেন।

পুলিশ তখন অপরাধীকে ধরতে এবং তাকে আইনের আওতায় এনে শাস্তি দিতে তাদের নিজস্ব পদ্ধতি ব্যবহার করবে। ধন্যবাদ।

Mohammad Robin

আমি মুহাম্মদ রবিন, একজন সৌদি আরব প্রবাসী। আমার বাসা টাংগাইলের কালিহাতীতে। প্রযুক্তি বিষয়ক বিভিন্ন তথ্য নিজে জানার জন্য এবং আপনাদের জানানোর উদ্দেশ্যে এই ওয়েবসাইটটি তৈরি করেছি।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button
error: Content is protected !!